Connect with us

বিশ্বের সেরা ৯ টি হৃদয়স্পর্শী ফটোগ্রাফি… যা আপনাকে ১ বিন্দু হলেও নাড়া দিবে।

ফটোগ্রাফি

বিশ্বের সেরা ৯ টি হৃদয়স্পর্শী ফটোগ্রাফি… যা আপনাকে ১ বিন্দু হলেও নাড়া দিবে।

বলা হয়, একটি ছবিতে যা প্রকাশ করা হয়, তা হাজার লাইন লিখেও বলা যায় না। কিছু ছবি মানুষকে হাসায়, কিছু বিষণ্ণ করে, কিছু হয়তো আতঙ্কগ্রস্ত করে। কিন্তু এরকম কিছু ছবি আছে যা মন ছুঁয়ে যায়, কাঁদতে বাধ্য করে একজন মানুষকে। অনলাইন থেকে সংগৃহীত এমন ৯টি মর্মস্পর্শী ছবি নিয়ে ব্লগার মারুফের আজকের পোস্ট। আপনার হৃদয়কে কিছুটা নাড়া দিবে হয়ত মাত্র এই কয়েকটা ছবি। চলুন দেখে নেয়া যাক আজকের কালেকশনঃ

১. ভূপালের গ্যাস ট্রাজেডঃ

ভূপালের গ্যাস ট্রাজেড

১৯৮৪ সালে ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভূপালে একটি কীটনাশক তৈরির কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটলে বিষাক্ত মিথাইল আইসোসায়ানাইড গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ১২৫ জন মানুষ আহত হন, নিহত হন প্রায় ১৫ হাজারের মত মানুষ। ফটোসাংবাদিক পাবলো বার্থোলোমিউ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ ছবিটি তারই তোলা যা দুর্ঘটনায় নিহত শিশুটিকে মাটিতে সমাহিত করার আগ মূহুর্তে তোলা হয়।

২. রানা প্লাজায় ধসঃ

রানা প্লাজায় ধস

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিলে সাভারের রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনায় মুহূর্তেই মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে শোক এবং উৎকণ্ঠা। ধ্বংসস্তূপ থেকে আহত-নিহত মানুষে বের করে আনার পুরো প্রক্রিয়াটা চলেছে দিনের পর দিন আর তার মাঝে দিয়ে আমরা সবাই একটু একটু করে উপলব্ধি করেছি নিদারুণ সেই বিভীষিকা। ব্যাপারটি এতই গুরুতর যে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের মানুষের কাছে এর সংবাদ চলে যায়, সেই সাথে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে তোলা বিভিন্ন ছবি। যেমন, তাসলিমা আখতারের তোলা প্রচ্ছদের এই ছবিটি। দুইজন মানুষের পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে বেঁচে থাকার যে ভীষণ আকুতি উঠে এসেছে এই ছবিতে, শত বলেও তা ব্যাখ্যা করা যাবে না। কি করে মৃত্যু হলো তাদের? তারা কি একজন আরেকজনকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন? কেমন ছিলো তাদের জীবন, তাদের স্বপ্ন? না জানি কী ভীষণ ভালোবাসায় মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে পরস্পরকে আঁকড়ে ধরেছিলেন তারা!

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এখনো আলোচিত হয়ে যাচ্ছে মর্মস্পর্শী এই নিদারুণ করুন ছবিটি।

৩. ক্যান্সারে আক্রান্ত ছোট্ট মেয়েটিঃ

ক্যান্সারে আক্রান্ত ছোট্ট মেয়েটি

এ ছবিটি একটি ছোট মেয়ের, যে কিনা ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল। কেমোথেরাপির কারণে তার মাথার চুল সব পড়ে যায়। আয়নাতে কি মেয়েটি তার মনের ইচ্ছাটুকুই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছিল? মেয়েটি এখনো বেঁচে আছে কিনা আমাদের জানা নেই।

৪. মানুষ মানুষের জন্যঃ

powerful-photos-1

উগান্ডাতে ১৯৮০ সালে চলছিল প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ। অনাহারের শিকার এক শিশুর হাত পরম মমতায় ধরে রেখেছেন দাতব্য সংস্থার একজন কর্মী। মর্মস্পর্শী এ ছবিটি তুলেছেন মাইক ওয়েলস।

৫. প্রিয় শিক্ষকের জন্য বেদনার সুরঃ

প্রিয় শিক্ষকের জন্য বেদনার সুর

ডিয়েগো ফ্র্যাজাও টোরকোয়াটো নামে ১২ বছরের এই ব্রাজিলিয়ান ছেলেটি তার প্রিয় শিক্ষকের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে ভায়োলিন বাজাচ্ছে, চোখে বেয়ে ঝরে পড়ছে তীব্র কষ্টের অশ্রু। সেই শিক্ষক ছোট এ ছেলেটিকে সঙ্গীতের সাহায্যে দারিদ্র ও সংঘাত থেকে মুক্তি পেতে সহযোগিতা করেছিলেন।

৬. ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার থেকে পড়ন্ত মানুষঃ

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার থেকে পড়ন্ত মানুষ

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় বিধ্বস্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ার। পুরো ভবনে আগুন ধরে গেলে অনেকেই নিচে ঝাঁপ দেন জীবন বাঁচানোর আশায়। সেরকমই এক হতভাগ্য ব্যক্তির ছবি তুলেন এপি’র আলোকচিত্রশিল্পী রিচার্ড ড্রিউ। বলাই বাহুল্য যে মানুষটি বাঁচাতে পারেন নি নিজের জীবন।

৭. থাইল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যাঃ

থাইল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যা

থাইল্যান্ডের নির্বাসিত স্বৈরশাসক ফিল্ড মার্শাল থামম কিটিকাচর্নের দেশে ফিরে আসার কথা শুনে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে পুরো থাইল্যান্ড। থামাসাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও এর ব্যতিক্রম ছিল না। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভরত ছাত্রদের উপর গণহত্যা চালানো হয় ১৯৭৬ সালের ৬ অক্টোবর। বহু ছাত্রকে গুলি করে, পিটিয়ে বা আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়। সেরকমই একটি ঘটনার ছবি তুলেছেন নীল ইউলেভিচ, যেটা ১৯৭৭ সালে পুলিৎজার প্রাইজ পায়।

৮. সুদানের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ১৯১৩:

সুদানের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ (১৯৯৩)

বিশ্ববিখ্যাত ও একইসাথে প্রবল সমালোচিত এ ছবিটি ১৯৯৩ সালে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। আর এর মাধ্যমেই আলোতে আসেন আলোকচিত্রশিল্পী কেভিন কার্টার। সুদানের দুর্ভিক্ষের সময় তোলা এ ছবিটি ১৯৯৪ সালে জিতে নেয় পুলিৎজার পুরস্কার। এতে দেখা যায়, দুর্ভিক্ষে খেতে না পেয়ে জীর্ণ-শীর্ণ একটি শিশু মাটিতে মূমুর্ষ অবস্থায় পড়ে আছে, আর খুব কাছেই একটি শকুন বসে আছে। যেন কখন শিশুটি মারা যাবে ও এটা শিশুটিকে খেয়ে ফেলতে পারবে তারই অপেক্ষা। ছবিটি ভয়াবহ বিতর্ক তৈরি করে। কথা উঠে যে, ছবি তুলে শিশুটিকে বাঁচানোর কোনো চেষ্টা কেভিন করেছিলেন কি না? কেভিনের নিজেরও মনে হতে শুরু করে যে, তিনি হয়তো চাইলে শিশুটিকে বাঁচাতে পারতেন। তীব্র মানসিক যন্ত্রণা থেকে ১৯৯৪ সালে তিনি আত্মহত্যা করেন। যদিও শিশুটি সেসময় মারা যায় নি, আরো বেশ কিছুদিন বেঁচে ছিল। নিয়ং কং নামের ছবির ছেলেটি মারা যায় ২০০৭ সালে। 

৯. যখন সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়ঃ

যখন সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়

১৯৮৫ সালে কলম্বিয়াতে আরমেরো নামে ছোট গ্রামের পাশেই নেভাদো দেল রুইজ নামে আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। পুরো গ্রামের উপর এর প্রতিক্রিয়া ছিল ভয়াবহ। এতে ব্যপক ভূমিধ্বসের সৃষ্টি হয়। অমায়রা স্যানচেজ নামে ১৩ বছরের এই মেয়েটি একটি বিধ্বস্ত ভবনের নিচে আটকা পড়ে। উদ্ধারকর্মীদের সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে টানা ৬০ ঘণ্টা আটকে থাকার পর সে মারা যায়।

[ পোস্টটি আমার ব্যক্তিগত ব্লগ এখানে প্রকাশিত । আমার ব্লগে আসার আমন্ত্রণ জানালাম। ধন্যবাদ…]

Continue Reading

আমি মারুফ, রংপুরে থাকি। এখন কারমাইকেল কলেজে একাদশ শ্রেণীর বাণিজ্য বিভাগে পড়াশুনা করছি। পড়াশুনার পাশাপাশি একটি সংবাদপত্রে শিশু সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছি। আর ব্লগিং পেশাটা হল শখের। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় আমি বাহিরে ঘুড়ে বেড়াতে অক্ষম। তাই কম্পিউটারে বসেই লেখালেখি আর পড়াশুনা করতেই সবসময় ব্যস্ত থাকি। ৩ বছর থেকে এতদিন ব্লগ পড়তাম। এখন ব্লগ লিখতে শুরু করেছি। ও! আরেকটি কথা, ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপিং শিখছি একটি প্রতিষ্ঠান থেকে। ব্লগ, ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ করেই যাচ্ছি। টেকনলোজি, শিশু-কিশোরদের নিয়ে লিখতে বেশি ভালোবাসি। সবশেষে বলব, আমি একজন ক্ষুদে ব্লগার। আমার একটি ব্যক্তিগত ভার্চুয়াল ডায়েরী আছে। ভিজিট করুন ঃ- www.bloggermaruf.blogspot.com

Click to comment

You must be logged in to post a comment Login

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More in ফটোগ্রাফি

Advertisement

বিভাগ সমূহ

টেক-বেঙ্গল পোল

"বাঙালীরা এখনো তথ্য প্রযুক্তি -তে পিছিয়ে" আপনি কি মনে করেন ?

View Results

Loading ... Loading ...

সেরা টেক বাঙালী

To Top