Connect with us

আজকের ফেসবুক ও মার্ক জুকার বার্গ হয়ে ওঠার গল্প

প্রতিবেদন

আজকের ফেসবুক ও মার্ক জুকার বার্গ হয়ে ওঠার গল্প

আজকের এই ফেসবুক পৃথিবীর সর্বাধিক জনপ্রিয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট, কেউ ইন্টারনেটের ব্যবহার জানলেই তার ফেসবুক আইডি থাকবেই, অনেকেই ফেসবুক ছাড়া থাকতেই পারেন না। কিন্তু কিভাবে এলো এই ফেসবুক ? তখন কেবল প্রাইমারি স্কুলে লেখাপড়া শুরু করেছেন জুকার বার্গ। পুরো নাম মার্ক এলিয়ট জুকার বার্গ। তখনই হাতেখড়ি কম্পিউটার এবং সফটওয়ার সংক্রান্ত নানা বিষয়ের সাথে। জন্ম ১৯৮৪ সালের ১৪ মে নিউওয়ার্কের হোয়াইট প্লেইনে। বাবা এ্যডওয়ার্ড জুকার বার্গ একজন দাতব্য চিকিৎসক। তিনিই জুকার বার্গকে প্রথম পরিচয় করিয়ে দেন এটারি বেসিক প্রোগ্রামিংয়ের সাথে ১৯৯০ সালের দিকে। পরে একজন সফটওয়ার ডেভেলপার ডেভিড নিউম্যানকে তার গৃহশিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করেন। গৃহশিক্ষক তার মেধা এবং আগ্রহ দেখে এতটাই মুগ্ধ ছিলেন যে তিনি তাকে ‘প্রোডিজি’ বলে ডাকতেন। যার অর্থ তিনি গুরুকেও ছাড়িয়ে গেছেন এমন শিষ্য। সকালের সূর্য দেখলেই যেমন বোঝা যায় দিনটি কেমন যাবে ঠিক তেমনি জুকারকেও বুঝে নিতে অসবিধে হয়নি গৃহশিক্ষক নিউম্যানের। হাই স্কুলে পড়াকালীন সময়েই সে মার্সি কলেজ থেকে এ বিষয়ে একটা ডিগ্রির কোর্স করেছিল। প্রথম থেকেই তার আগ্রহের পুরোটা অংশ জুড়ে ছিল যোগাযোগ টুলসের ব্যবহার এবং বিভিন্ন গেমস্ এর প্রতি। প্রথমে সে যে সফটওয়ারটি তৈরি করে সেটি ছিল তার বাবার দাতব্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের জন্য। যখন সে আরডেসলি হাই স্কুলে পড়তেন ইন্টেলিজেন্ট মিডিয়া গ্রুপ কোম্পানির অধীনে তিনি একটি মিউজিক প্লেয়ারও তৈরি করেছিলেন।

Mark-Zuckerberg

২০০২ এর সেপ্টেম্বরে তিনি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে মনস্তত্ত্ব এবং কম্পিউটার সাইন্সে পড়াশুনা শুরু করেন। হার্ভার্ডে যখন তিনি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তখন তিনি কোর্সম্যাচ নামে একটি প্রোগ্রাম ডিজাইন করেছিলেন যা শিক্ষার্থীদের ক্লাস সিলেকসনে সাহায্য করত। তার কিছু দিন পর তিনি ‘ফেসম্যাস’ নামে আর একটি সাইট ডিজাইন করেন। এই ফেসম্যাসে শিক্ষার্থীরা ছবির মাধ্যমে তাদের পছন্দের সব প্রিয় মানুষকে খুঁজে পেত। তার রুমমেট এ্যরি হাসিটের মতে জুকার এই সাইটটি শুধুমাত্র মজা করার জন্য বানিয়েছিলেন। হাসিটের মতে জুকার এই সাইটটিতে প্রথমে দুইজন মেয়ে এবং দুইজন পুরুষের ছবি দিয়েছিল। তার উদ্দেশ্য ছিল ভোটের মাধ্যমে র‍্যাংকিং করা কে বেশী জনপ্রিয়। সে সময় ফেসম্যাস সাইটটি দেখে কিছু শিক্ষার্থীরা তাকে অনুরোধ করল হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি সাইট বানানোর জন্য। তবে এ সময় হার্ভার্ডের অন্য আরো কিছু সংখ্যক ছাত্র তার এই যোগাযোগ সাইটটির প্রতি তুমুল আপত্তি জানায়। তাদের বক্তব্য ছিল জুকার বার্গ কোন অনুমতি ছাড়াই তাদের ছবি এবং ব্যক্তিগত তথ্য এই সাইটটিতে প্রকাশ করছে। এ ব্যাপারে জুকার বার্গকে হার্ভার্ড থেকে সতর্ক করে দেয়া সত্ত্বেও জুকার বার্গ তার এই সাইটটি ডেভেলপ করতে অটল থেকেছেন। এবং যার ফলশ্রুতিতে তাকে হার্ভার্ড থেকে বহিষ্কার হতে হয়। তবে তার যোগাযোগের এই সাইটটি ডেভেলপ করার কাজ থেমে থাকে নি। বরং আরো গতিশীল হয়েছে। অবশেষে প্রায় দশ হাজার ঘন্টা কোডিং করে ২০০৪ এর ফেব্রুয়ারি মাসে হার্ভার্ডের ডরমেটরি রুমে বসে শিক্ষার্থীদের ছবি এবং ইনফরমেসন সমৃদ্ধ একটি সাইট “ফেসবুক”যাত্রা শুরু করে। প্রথমে এই ফেসবুক বিভিন্ন স্কুল স্টানফোর্ড,ডার্টমাউট,কলম্বিয়া,নিউওয়ার্ক ইউনিভার্সিটি,কর্নেল,পেন,ব্রাউন,এবং অন্যান্য আরো স্কুলগুলোতে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। আজ সারা বিশ্বে ফেসবুকের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। তার এই ফেসবুক এবং সাফল্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন – “ অর্থের পরিমান আমার কাছে কখনই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো না। আমি এবং আমার সহকর্মীদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল কিভাবে আমরা মানুষের জন্য একটি অবাধ তথ্য বিনিময়ের সাইট ডিজাইন করব। কোন শক্তিশালী যোগাযোগ মাধ্যমের মালিক হওয়া এ বিষয়টি আমাদেরকে বিশেষ আকৃষ্ট করেনি”। আজ সারা পৃথিবীতে সবথেকে তরুণতম বিলিয়নিয়ার মার্ক জুকার বার্গ। কেউ কেউ তাকে রাতারাতি বিলিয়নিয়ার বা একজন হ্যাকার বলে খাটো করতে চেয়েছেন কিন্তু অনেকেরই জানা নেই ফেসবুক প্রতিষ্ঠার পেছনে কতটা স্বপ্ন, কতটা ত্যাগ, সংগ্রাম, দৃঢ়তা, অধ্যবসায় মেশানো ছিলো। রাতারাতি তিনি একজন জুকার বার্গ হয়ে ওঠেন নি। তার স্বপ্ন আর সফলতার পাতাগুলো খুলে দেখলেই স্পষ্ট হয় কেন তিনি আজ মার্ক জুকার বার্গ। বিশেষ করে আমরা যারা অনুজ উদ্যোক্তা জানা খুব দরকারি এই তরুণতম বিলিয়নিয়ার জুকার বার্গের স্বপ্ন-সংগ্রাম-সাফল্যের দিনগুলো…

facebook-profile-of-mark-zuckerberg-founder-and-ceo-of-facebook-picture

স্বপ্ন পূরণের তাড়না: অনেকের ধারণা জুকার বার্গ হঠাৎ করেই রাতারাতি বিলিয়নিয়ার হয়ে উঠলেন এবং ফেসবুক প্রতিষ্ঠা বিশেষ কোন কঠিন কাজ ছিলো না। বিষয়টি শুধু ভুলই নয় হাস্যকরও বটে। এই খ্যাতি অর্জনে এবং স্বপ্নপূরণে সীমাহীন ত্যাগ করতে হয়েছে তাকে। শুধুমাত্র একটি ইচ্ছে পূরণে তিনি তার পেছনে অসীম ধৈর্যশক্তি নিয়ে ব্যয় করেছেন ব্যাপক সময় আর শ্রম। প্রায় দশ হাজার ঘন্টা কোডিং করে ডিজাইন করা আজকের এই ফেসবুক। সুতরাং বিষয়টির সাথে কতটা ইচ্ছাশক্তি-আবেগ-ভালোবাসা-নিষ্ঠা-শ্রম জড়িত তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। যে কারণে নেপোলিয়ান হিল বলেছিলেন-“ অদম্য ইচ্ছাশক্তিই অর্জনের প্রথম নির্দেশক”। সংকীর্ণ চিন্তার গলি পরিহার করা: ফেসবুক জুকার বার্গের একটি স্বপ্নের প্রকল্প। তাকে এবং তার এই প্রকল্প বিক্রয়ের জন্য অনেক লোভনীয় প্রস্তাব সে পেয়েছিল কিন্তু তিনি তা কখনই গ্রহণ করেন নি। তিনি গুগোল থেকে লোভনীয় প্রস্তাব পেয়েছিলেন, ইন্টারনেটের অনেক বড় প্রতিষ্ঠান ইয়াহু ! ফেসবুককে ১ বিলিয়ন নগদ অর্থমূল্যে কিনতে চেয়েছিল শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয় নি। কারণ তিনি কারো অধীনে চাকরি করার প্রতি আগ্রহী ছিলেন না বরং পৃথিবী পরিবর্তনের এক মহৎ ব্রত ছিল তার লক্ষ্য। তার স্বপ্ন ছিল বড় কিছু করা। প্রথমে তার বন্ধুদের স্বপ্ন ছিল ফেসবুক শুধুমাত্র তাদের কলেজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে কিন্তু জুকার বার্গ দেখেছিলেন সারা পৃথিবীর মানুষ ব্যবহার করবে এই যোগাযোগ মাধ্যম। ছোট থেকে শুরু করা: জুকার বার্গের স্বপ্ন অনেক বড় ছিল এবং সমগ্র পৃথিবীকে ঘিরে ছিল তার পরিকল্পনা কিন্তু তিনি যখন শুরু করেছিলেন একমাত্র আইডিয়া ছাড়া তার কিছুই ছিল না। হার্ভার্ডের ডরমেটরি রুমে বসে যে যাত্রা শুরু করেছিল ফেসবুক এখন সে জায়গায় আর নেই। তার এই ফেসবুক প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগের জন্য তিনি পেপলের সহপ্রতিষ্ঠাতাদের দারস্থ হয়েছিলেন, ২০০৭সালে মাইক্রোসফট ১৪৬ মিলিয়ন ডলারে ১.৬% শেয়ার কিনতে চেয়েছিল এবং পরবর্তী মাসে হংকং এর বিলিয়নিয়ার লি কে সিং বড় একটা বাজেট বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেন নি। আজকের এই ফেসবুক দাঁড়ানোর পেছনে অর্থায়নের প্রধান অবদান বিজ্ঞাপণ দাতা সংস্থা। তিনি আমাদের প্রমান করে দিলেন শুধুমাত্র ইচ্ছা, চিন্তাশক্তি আর চেষ্ঠা থাকলে অর্থ কখনো বাঁধা হতে পারে না। ছোট থেকেই শুরু করতে হয় এ নিয়ে কোন লজ্জা বা সন্দেহের অবকাশ নেই। নিজের আবেগ অনুভূতিকে প্রধান্য দেয়া: শিশুকাল থেকেই জুকার বার্গের আগ্রহ ছিল বিভিন্ন প্রোগ্রমিং এবং গেমসের প্রতি। তিনি তার আগ্রহের বিষয়টি থেকে কোন ভাবেই বিচ্ছিন্ন হন নি। তারই ফসল এই ফেসবুক। শুধুমাত্র নিজের আবেগ-অনুভূতিকে প্রাধান্য দিতে যেয়ে তাকে হার্ভার্ড থেকে বহিষ্কার হতে হয়েছে। যার ফলসরূপ তিনি নিজেই এখন একজন প্রতিষ্ঠান। অনেকেই তার এই সাফল্যের গল্পে খুব রোমাঞ্চিত হন কিন্তু এড়িয়ে যান এর জন্য তাকে যে কি চরম মূল্য দিতে হয়েছে।

mark

সমালোচনাকে সহজ ভাবে নেয়া : প্রত্যেক সফল উদ্যোক্তাদের মতো জুকার বার্গকেও বিভিন্ন সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে কিন্তু তিনি তা কখনই গায়ে নেন নি। একশ্রেণী সব সময়ই থাকে যারা ঈর্ষাপ্রবণ এবং সমালোচনা ছাড়া তারা বিশেষ কোন কাজ জানে না। এবং একশ্রণী সব সময় সৃষ্টিশীলতায় মেতে থাকেন। জুকার বার্গ সেই সৃষ্টিশীল মানুষ। কাজে সমালোচনা থাকবেই তবে কখনই তার আঘাতে পিছিয়ে পড়া বা সরে দাঁড়ানো যাবে না। নিরলস প্রচেষ্ঠা: জুকার বার্গ বলছিলেন আমরা শুধু লক্ষ্য স্থির রেখে নিরলস কাজে লেগে থেকেছি। সারাক্ষণ একটিই স্বপ্ন, একটিই বিষয়,একটিই কাজ কিভাবে ফেসবুক সারা পৃথিবীর মানুষের জন্য অবাধ তথ্য বিনিময়ের একটি জনপ্রিয় সাইট হয়ে উঠবে। আমরা ঘুমে-অঘুমে,স্বপ্নে শুধু ফেসবুক নিয়ে ছিলাম। আজকের এই ফেসবুক নিরন্তর নিরলস প্রচেষ্ঠারই ফসল। সাহসি মনোভাব সম্পন্ন: ব্যবসায়ে ঝুঁকি থাকে এবং বড় কোন কাজ করতে গেলে বাঁধা আসবেই কিন্তু কোন ভাবেই পেছনে সরে আসেন নি জুকার বার্গ। তিনি যখন ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করলেন তখন তাকে বিভিন্ন ভাবে বড় প্রতিষ্ঠান থেকে বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। গুগোলের মতো প্রতিষ্ঠান তাকে বিভিন্ন ভাবে সমস্যায় ফেলতে চেয়েছিল কিন্তু জুকার বার্গ কোন ভাবেই দমে যান নি। সে সময়ে তার সাহসি ভূমিকায় আজ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে ফেসবুক। প্রবাদে আছে -“ভাগ্য সাহসিদের অনুগ্রহ করে”। লক্ষ্য স্থির রাখা: জুকার বার্গ তার ফেসবুক প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে বলেন – “আমার মনে হয় পৃথিবীর মানুষের কাছে ফেসবুক পৌঁছে দিতে আমি যথেষ্ঠ যত্নবান ছিলাম”। তিনি লক্ষ্যের প্রতি স্থির এবং অবিচল ছিলেন। মার্ক জুকার বার্গের এই উদ্যোগি ক্ষমতা এবং তার ধারাবাহিক কাজের প্রতি যে নিষ্ঠার পরিচয় তিনি দিয়েছেন সত্যিই অনুসরণীয়। স্বাভাবিক ভাবেই বলতে হয় মার্ক এলিয়ট জুকার বার্গ রাতিরাতি বিলিয়নিয়ার হয়ে যান নি। এই সাফল্যই তার প্রাপ্য কারণ তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী নিরন্তর ধারাবাহিক কাজ করেছেন, এখনও করে যাচ্ছেন। ভাগ্য বা কোন অনুগ্রহ তাকে এ পর্যায়ে আনে নি। তার স্বপ্ন, তার কাজই তাকে এখানে এনেছে।

person of the year in time

এই মুহূর্তে সবচেয়ে তরুণতম বিলিয়নিয়ার তিনি। যার সম্পদের পরিমান প্রায় ১৭.৫ বিলিয়নেরও বেশী। ২০১০ সালে ফেসবুকের প্রধান প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মার্ক জুকারবার্গ বিশ্বের সর্বাধিক পঠিত সাপ্তাহিক টাইম ম্যাগাজিন কর্তৃক তাদের প্রচ্ছদে ঠাঁই করে নেন। টাইম ম্যাগাজিন ঐ বছর তাকে “পারসন অব দ্য ইয়ার” হিসেবে মনোনীত করেছিল। বি দ্রঃ লেখাটি ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত, অনেক দিন আগেই আমার কম্পিউটারে সেফ করে রেখে ছিলাম। আজ হঠাৎ দেখে এখানে প্রকাশ করলাম।

Continue Reading
blank

ইনি ছোটবেলা থেকেই তথ্য-প্রযুক্তি-কে ভালোবাসেন, সব সময় প্রযুক্তি নিয়েই থাকেন। স্বাধীন ভাবে চলতে পছন্দ করেন। এখন কম্পিউটার নিয়ে পড়াশুনা করছেন ও তার পাশাপাশি ওয়েব ডেভেলপর হিসেবে ফ্রীল্যান্সিং করেন।

Click to comment

You must be logged in to post a comment Login

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More in প্রতিবেদন

Advertisement

বিভাগ সমূহ

টেক-বেঙ্গল পোল

"বাঙালীরা এখনো তথ্য প্রযুক্তি -তে পিছিয়ে" আপনি কি মনে করেন ?

View Results

Loading ... Loading ...

সেরা টেক বাঙালী

To Top